ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুর প্রথম সংবাদ সম্মেলন: দুর্নীতি মামলা বন্ধের আবেদন
নেতানিয়াহুর প্রথম সংবাদ সম্মেলন: দুর্নীতি মামলা বন্ধের আবেদন

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুর প্রথম সংবাদ সম্মেলন: দুর্নীতি মামলা বন্ধের আবেদন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১২ দিন পর বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার প্রথম সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। এই সম্মেলনে তিনি যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং একইসঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

দুর্নীতি মামলাকে 'অযৌক্তিক সার্কাস' আখ্যা

নেতানিয়াহু সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি মামলাটিকে 'অযৌক্তিক সার্কাস' হিসেবে বর্ণনা করে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আবেদন জানান, যাতে মামলাটি বন্ধ করে তাকে ক্ষমা করা হয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "প্রেসিডেন্টকে কেবল সঠিক কাজ করতে হবে এবং মামলা শেষ করতে হবে, যাতে আমি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে প্রেসিডেন্ট এবং আমার সময় দেওয়া উচিত। শুধু শত্রু পরাজিত করাই নয়, আমাদের অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও জোট তৈরির সুযোগও তৈরি করতে হবে।" নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, "সামনে অনেক বড় কাজ রয়েছে এবং আমি এগুলো নিয়েই এখন কাজ করছি, কোনো বাধা ছাড়াই।"

সরাসরি সাক্ষাৎকারে পরিবর্তন

এই সংবাদ সম্মেলনের আগ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি ছিলেন না। বরং তিনি পূর্বে রেকর্ড করা বিবৃতি প্রচার করতেন, যা গণমাধ্যমের কাছে তথ্য প্রবাহে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছিল।

তথ্য শূন্যতা ও সামরিক ব্রিফিং

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের মতো, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরও এমন কোনো দাপ্তরিক কাঠামো নেই, যা চলমান যুদ্ধে কূটনৈতিক ও বেসামরিক তথ্য নিয়মিত গণমাধ্যমকে জানায়। সরকারি প্রেস টিমও সাংবাদিকদের সীমিত তথ্যই প্রদান করে থাকে।

এই তথ্য শূন্যতা পূরণ করতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এফি দেফরিন নিয়মিত ব্রিফিং দিচ্ছেন। তবে তিনি কেবল সামরিক অভিযান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করেন। বেসামরিক বা নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো তার এখতিয়ারের বাইরে রয়েছে, যা সরকারি তথ্য প্রবাহে একটি ফাঁক তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সরাসরি সংবাদ সম্মেলন একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের যোগাযোগ কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে।