দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা অত্যাধুনিক থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের ক্রমাগত হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শক্তিশালীকরণের প্রয়োজনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানের হামলা ও প্রতিরক্ষা ঘাটতি

জর্ডানে অবস্থিত একটি থাড ব্যবস্থার রাডার ইরান ধ্বংস করার খবর প্রকাশের পর এই পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, ইরান এখন পর্যন্ত ৫০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার বেশিরভাগ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এই বিপুল হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত কমে আসছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।

থাড কী এবং এর গুরুত্ব

থাড বা টার্মিনাল হাই-অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা লকহিড মার্টিন তৈরি করেছে। এটি ‘হিট-টু-কিল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারে, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রযুক্ত ওয়ারহেডও ধ্বংস করতে সক্ষম। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে, যার দুটি মধ্যপ্রাচ্যে—জর্ডান ও ইসরায়েলে অবস্থিত।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিক্রিয়া

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দেয়। এখন, সিওলের দক্ষিণে সেওংজু বিমানঘাঁটি থেকে থাড লঞ্চারগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং স্বীকার করেছেন যে তাঁর দেশ মার্কিন অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানালেও বাস্তবতা হলো তারা তাদের অবস্থান পুরোপুরি চাপিয়ে দিতে পারছে না।

চীন ও অন্যান্য দেশের প্রতিক্রিয়া

থাড স্থানান্তরের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন থাড মোতায়েনের বিষয়ে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০১৭ সালে থাড স্থাপনের সময় চীন কঠোর সমালোচনা করেছিল, কারণ তারা মনে করেছিল এই ব্যবস্থার রাডার চীনের ভেতরে নজরদারি করতে ব্যবহার হতে পারে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক ইয়ান চং বলেছেন, থাড সরিয়ে নেওয়া দেখে বেইজিং খুশি হতে পারে, কিন্তু যতক্ষণ না এটি স্থায়ীভাবে সরানো হয়, ততক্ষণ তারা একে বিজয় হিসেবে দেখবে না। উত্তর কোরিয়া এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ভবিষ্যত সম্ভাবনা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন নিলসন-রাইট বিবিসিকে বলেছেন, এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক ব্যবহার করেছে, ফলে সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অধ্যাপক ইয়ান চং সতর্ক করেছেন যে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারকে এতটা কমিয়ে দিতে পারে, যা অন্য কোথাও জরুরি পরিস্থিতি সামলানো কঠিন করে তুলবে। মার্কিন একজন কর্মকর্তা এই স্থানান্তরকে ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।