পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ৬, আহত ১২
আফগানিস্তানের কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান কাম এয়ারের একটি জ্বালানি তেলের ডিপোয় পাকিস্তানের বিমান হামলায় আগুন ধরে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত এই হামলায় শিশুসহ ৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন বলে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার নিশ্চিত করেছে।
হামলার বিস্তারিত ও স্থানীয়দের বর্ণনা
হামলা কেবল কান্দাহারেই সীমাবদ্ধ নেই; রাজধানী কাবুল ও নানগারহার প্রদেশেও একই রাতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুরসেলিন, যিনি কাবুলে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাস করেন, হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘ঘুম ভেঙে গেল। চারপাশ ধুলায় ঢেকে ছিল। কয়েক মিনিট পর আমার সন্তানদের কথা শুনতে পেলাম। তারা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল এবং চিৎকার করছিল।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই হামলায় তাঁর বোন ও দুই শিশুসন্তান আহত হয়েছে।
তালেবান সরকারের প্রতিক্রিয়া ও হুঁশিয়ারি
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের ওই ডিপো থেকে বেসরকারি উড়োজাহাজে তেল সরবরাহ করা হয়, এমনকি জাতিসংঘের উড়োজাহাজও এখান থেকে তেল নেয়। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে অস্থির এই অঞ্চলে পাকিস্তানের হামলা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
পূর্বের সংঘাত ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রথমে ইসলামাবাদ হামলা চালায় এবং কাবুল পাল্টা হামলা করে। সেই সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল, তবে চীনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর গত সপ্তাহে কোনো বিমান হামলার খবর না পাওয়া গেলেও বৃহস্পতিবারের এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের দাবি ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের সামরিক সূত্র বৃহস্পতিবার রাতের হামলার পর জানিয়েছে যে, তারা কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে চারটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। কান্দাহারে তেলের ডিপোয় হামলার কথাও তারা স্বীকার করেছে। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই হামলার ফলে আফগানিস্তানে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তালেবান সরকারের হুঁশিয়ারি এবং পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
