দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন উচ্ছেদ নির্দেশ, যুদ্ধবিরতি উপেক্ষিত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের উচ্ছেদ নির্দেশ, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন

দক্ষিণ লেবাননের আরও চারটি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে উচ্ছেদ নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে বেসামরিক নাগরিকদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়ে আরজুন, তায়ের দেব্বা, আল-বাজুরিয়া এবং আল-হাওশ শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যেতে বলা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি থাকলেও হামলা অব্যাহত

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ এই উচ্ছেদ নির্দেশ। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিতানি নদী সংলগ্ন দেইর মিমাস শহরের একটি সৌরচালিত পানি পাম্পিং স্টেশন ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে আগে থেকেই বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হয়েছিল, যা সোমবার বিস্ফোরিত হয়ে ওই অঞ্চলের খাওয়ার পানি সরবরাহের মূল কেন্দ্রটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

জনজীবনে চরম সংকট

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড তাঁদের জনজীবনে চরম সংকট তৈরি করছে। পানীয় জলের উৎস ধ্বংস হওয়ায় এলাকার মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নতুন উচ্ছেদ নির্দেশের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলের দাবি ও লেবাননের পরিসংখ্যান

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর ১ হাজার ১০০-র বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে অন্তত ৩৫০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যদিও লেবানন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতায় এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মানবিক সংকট প্রকট

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন জনপদে নিয়মিত বিমান হামলা ও উচ্ছেদ নির্দেশের ফলে মানবিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জোরালো দাবি থাকলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নতুন এই উচ্ছেদ নির্দেশের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই