২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য আংশিকভাবে দায় স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তিনি মনে করেন, এই ব্যর্থতার দায় শুধু তার একার নয়, বরং রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ‘সবারই’ রয়েছে। রোববার (১০ মে) সিবিএস নিউজে দীর্ঘ এক ঘণ্টার একটি ইন্টারভিউতে তিনি এসব কথা বলেন।
দায় স্বীকার ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নেতানিয়াহু বলেন, ‘রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা বিভাগের সকল ক্ষেত্রে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই কিছু না কিছু দায় বহন করে।’ তবে তার দাবি, মূল বিষয় এখন আর ৭ অক্টোবরের আগে কী হয়েছে তা নয়, বরং ওই ঘটনার পর ইসরায়েল কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ‘হামলার পর ইসরায়েলকে ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ থেকে বের করে আনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল এবং তার সরকার ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে।’
তদন্ত কমিশন বিতর্ক
সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের বদলে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনের পক্ষে নিজের অবস্থান জানান, যদিও ইসরায়েলে অধিকাংশ নাগরিক স্বাধীন তদন্ত কমিশনের পক্ষে মত দেন বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। এছাড়া তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলকে খ্রিস্টানদের প্রতি বৈরী হিসেবে উপস্থাপন করা একটি ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’, এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিলিস্তিন ও ইরান যুদ্ধে ইসরায়েল ভালো করতে পারেনি বলেও স্বীকার করেন।
যিশুর মূর্তি ভাঙার ঘটনা
তবে তিনি গত মাসে দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করছেন এমন এক ইসরায়েলি সেনার ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে কিছুই বলেননি। যিশুর মূর্তি ভাঙা ও সেই ঘটনার ছবি তোলার দায়ে দুই ইসরায়েলি সৈন্যকে ৩০ দিনের সামরিক কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের যুদ্ধের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
অন্যান্য অভিযোগ
ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সম্পদ-আসবাবপত্র লুট করারও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলি কারাগারে ব্যাপক নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে। তবে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানায় পশিমা দেশগুলোতে আইডিএফ নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সীমান্ত পার হয়ে চালানো হামলায় ইসরায়েলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যা পরবর্তীতে গাজা যুদ্ধের সূচনা করে। সূত্র: সিবিএস নিউজ



