মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইসরাইলি নজরদারির আশঙ্কায় পেন্টাগনের সর্বোচ্চ সতর্কতা
মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইসরাইলি নজরদারির আশঙ্কায় পেন্টাগনের সর্বোচ্চ সতর্কতা

মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান ও আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কায় দেশটির বিরুদ্ধে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স বা প্রতি-গোয়েন্দা হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (৫ জুন) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিআইএ-এর নতুন মূল্যায়ন

দুইজন বর্তমান এবং একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই নতুন মূল্যায়ন জারি করেছে। এর মাধ্যমে ইসরাইলের হুমকি সংক্রান্ত সূচকটিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও সিদ্ধান্তগুলো আগেভাগে জানার জন্য ইসরাইল বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে। মূলত জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি জোরদার করার ইসরায়েলি প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করেই পেন্টাগন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

গোপন নথি ও উদ্বেগ

বর্তমান কর্মকর্তারা জানান, ডিআইএ-এর এই নতুন মূল্যায়নে সাত পৃষ্ঠার একটি গোপন নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেখানে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক মতবিরোধের আবহেই এই উচ্চ সতর্কতা জারি করা হলো। গত সপ্তাহেই দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবে নাকি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে চরম উদগ্রীব হয়ে আছে ইসরায়েল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরাইলি দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া

তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইলি দূতাবাস এই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইসরাইল মার্কিন সরকারের কর্মকর্তাদের ওপর কোনো ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে না এবং এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অন্যদিকে, পেন্টাগন এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাও প্রতিবেদনটিকে অসত্য বলে উল্লেখ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

অবশ্য প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাকে ‘অতি-আগ্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী করতে যাচ্ছে, তা জানার জন্য ইসরাইলিরা বরাবরই অত্যন্ত মাত্রায় আগ্রহী এবং তৎপর থাকে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।