শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিবেশবাদী কর্মী, যুব নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকে অংশ নিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি দ্রুত পর্যায়ক্রমে বন্ধ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
ফ্রাইডেস ফর ফিউচার আন্দোলন
২০১৮ সালে জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গ চালু করা বৈশ্বিক 'ফ্রাইডেস ফর ফিউচার' প্রচারণার অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানে বক্তারা ক্রমবর্ধমান জলবায়ু জরুরি অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন পরিবেশগত ও আর্থ-সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি, যদিও বিশ্বব্যাপী নির্গমনে এর অবদান নগণ্য।
জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা ও সমাধান
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধোরা) এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা দেশটিকে জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। তিনি সৌর সরঞ্জামের ওপর কর প্রত্যাহার এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ জমি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলো দেশের নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী সতর্ক করে বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, নদী দূষিত করছে এবং মৎস্যসহ উপকূলীয় জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
যুব প্রতিনিধিদের বক্তব্য
‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ এর বাংলাদেশ সমন্বয়কারী সাইদুর রহমান সিয়াম বলেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি তুলে ধরে। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে একটি 'ন্যায়সঙ্গত ও দ্রুত রূপান্তর'ই একমাত্র টেকসই সমাধান।
ভলান্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্ট–ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এর যুব প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেন, পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি আরও বাড়বে।
জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা অনুপ্রবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারা জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন ও ক্ষয়ক্ষতি সহায়তা সহ জলবায়ু ন্যায়বিচারকে বৈশ্বিক আলোচনায় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকটি পরিবেশ ও যুব সংগঠন একত্রিত হয়, যারা যৌথভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি সম্প্রসারণ বন্ধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী পরিবেশ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।



