জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী উন্নত দেশগুলোকেই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ ও অভিযোজন সহায়তা দিতে হবে—এমন দাবি উঠে এসেছে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায়।
কর্মশালার আয়োজন
শনিবার (৬ জুন) ঢাকার বনশ্রীতে নারী উন্নয়ন শক্তির ট্রেনিং সেন্টারে ‘ছাদ বাগান প্রচার ও হিট স্ট্রোক সচেতনতা কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালার যৌথ উদ্যোগে ছিল ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট এবং নারী উন্নয়ন শক্তি। কর্মশালায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এবং ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট।
বক্তাদের বক্তব্য
বক্তারা বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও বন উজাড়ের ফলেই বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো আজ জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় শিকার।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধিতে কোটি মানুষ জীবিকা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে তাপপ্রবাহ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে, যা কৃষি ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সভাপতিত্ব
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নুসরাত সুলতানা আফরোজ। সভাপতিত্ব করেন ড. আফরোজা পারভীন। সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেন বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড কার্যকরের আহ্বান
বক্তারা জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), কপ সম্মেলন এবং বিশেষ করে কপ টুয়েন্টি সেভেন-এ গৃহীত ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, উন্নত দেশগুলোর নৈতিক ও আর্থিক দায়িত্ব রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর।
এনজিও প্রতিনিধিদের বক্তব্য
এনজিও প্রতিনিধিরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য অধিকতর ক্ষতিপূরণ ও অভিযোজন তহবিল নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করতে হবে।
ছাদ বাগানের ওপর গুরুত্ব
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ছাদ বাগান, বৃক্ষরোপণ ও নগর সবুজায়ন সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা ‘প্রতিটি ছাদ বাগান হোক সবুজ বাংলাদেশের অংশ’—এই স্লোগান সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিবেশ আন্দোলন আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি
বক্তাদের মতে, যারা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী, তাদেরই এখন ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পুনর্বাসন ও জলবায়ু অভিযোজনে নেতৃত্বমূলক আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে—এটাই জলবায়ু ন্যায়বিচারের মূল দাবি।



