সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে একটি চিত্রল হরিণের শাবক মারা গেছে। মাত্র কয়েক মাস আগে চালু হওয়া এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে পর্যটকদের প্রদর্শনীর জন্য রাখা হরিণের শেডে শুক্রবার দুপুরে হরিণ শাবকটি মারা যায়।
শাবকের জন্ম ও মৃত্যু
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে আলীবান্দা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের হরিণ রাখার শেডে একটি চিত্রল মা হরিণ এই শাবকটির জন্ম দেয়। জন্মের মাত্র তিন দিন পরই শুক্রবার দুপুরে শাবকটি মারা যায়।
বিশেষজ্ঞের মতামত
সুন্দরবন ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ফরিদ খান মিন্টু জানান, মাত্র কয়েক মাস আগে আলীবান্দা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে এই পর্যটন কেন্দ্রের হরিণ শেডে ৫টি চিত্রল হরিণ পর্যটকদের প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়। বালু দিয়ে ভরাট করে এই পর্যটন কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। বালু ভরাটের কারণে বন্যপ্রাণীর শেডগুলোর কাছের সব গাছ মরে গেছে। কোনো গাছপালা না থাকায় ছায়ার অভাবে প্রচণ্ড তাপদাহে টিনের শেডগুলোতে থাকা বন্যপ্রাণীগুলো অসহনীয় অবস্থায় রয়েছে। এমন অবস্থায় হরিণের শেডে বৃহস্পতিবার দুপুরে চিত্রল হরিণ শাবকটি মারা যায়।
তিনি আরও জানান, হরিণ খুবই সংবেদনশীল প্রাণী। তার বেড়ে ওঠা ও বেঁচে থাকার জন্য অনুকূল পরিবেশ দরকার। এজন্য এই পর্যটন কেন্দ্রের বন্যপ্রাণীর শেডগুলোর চারপাশ থেকে বালু অপসারণ করে মাটি ভরাট করে দ্রুত বর্ধনশীল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ লাগানোর দাবি জানান তিনি।
বন কর্মকর্তার বক্তব্য
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আলীবান্দা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হরিণের শেডে একটি চিত্রল হরিণের শাবক হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হরিণ শাবকটি মারা যায়। আপ্রাণ চেষ্টা করেও হরিণ শাবকটি বাঁচিয়ে রাখতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর তাদের নির্দেশে মৃত হরিণ শাবকটি আলীবান্ধা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে সংলগ্ন বনাঞ্চলে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।



