সুপার এল নিনোর সতর্কতা: বিশ্বব্যাপী সংকটের আশঙ্কা
সুপার এল নিনো সতর্কতা: বিশ্বব্যাপী সংকটের আশঙ্কা

বিজ্ঞানীরা ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী এল নিনোর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। এই অবস্থার কারণে দেশে তাপপ্রবাহের সময় ও তীব্রতা বেড়েছে। পূর্বে বছরে দুই-একবার চার-পাঁচ দিনের তাপপ্রবাহ দেখা গেলেও এখন তা বেড়ে চার-পাঁচটি বা তার বেশি হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

গত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রেকর্ড তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে। এল নিনো সক্রিয় হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। সুপার এল নিনোর কারণে বহু দেশ তীব্র দাবদাহের মুখোমুখি হবে, অন্যদিকে কোথাও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হবে।

বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সুপার এল নিনো আঘাত হানবে এবং নভেম্বর পর্যন্ত এর প্রভাব থাকতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিজ্ঞান স্পষ্ট: ৯০ শতাংশ নিশ্চিত যে এল নিনো আসছে। বিশ্বকে এটিকে জরুরি সতর্কতা হিসেবে নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এল নিনো উষ্ণ বিশ্বের আগুনে আরও তেল ঢালবে এবং এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুতেরেস সমাধান হিসেবে জলবায়ু সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন, যেমন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা এবং আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম বাড়তে পারে। তীব্র খরা ও অস্বাভাবিক বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্বে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এশিয়া ও আমেরিকার ওপর প্রভাব

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬ সালের শেষভাগে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো জোরালো রূপ নিতে পারে, যা এশিয়ায় তীব্র খরা এবং আমেরিকায় অতিবৃষ্টি বয়ে আনবে। স্যাটেলাইট ডেটা সংস্থা স্কাইফাই জানিয়েছে, এশিয়ার বিভিন্ন অংশে খরার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

ভারতে ৭০ শতাংশ বৃষ্টিপাত বর্ষা মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। তীব্র গরমে গ্রীষ্মকালীন ফসল যেমন ধান, সয়াবিন, ডাল, আখ ও ভুট্টার রোপণ বিলম্বিত হচ্ছে। একই অবস্থা থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সে, যেখানে জুন-জুলাইয়ে প্রধান ধান রোপণ হয়। থাইল্যান্ডের কৃষকরা পানির অভাবে দ্বিতীয়বার ধান চাষের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপসহ বেশ কিছু অঞ্চলে টানা ১০ দিনের বেশি বৃষ্টি হয়নি। বিশ্বের মোট চাল রপ্তানির ৪০ শতাংশ ভারত নিয়ন্ত্রণ করে, যা এল নিনোর প্রভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।