ট্রাম্পকে নোবেল মেডেল দিতে কোনো অনুশোচনা নেই: ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মাচাদো
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্পেনের মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাচাদোর বক্তব্য ও প্রতীকী উপহার
মাচাদো বলেন, ‘বিশ্বে এমন একজন নেতা আছেন, যিনি ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য নিজের দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন।’ তিনি জানান, গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই মেডেলটি তাকে প্রতীকীভাবে দেন। এই ঘটনাটি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক অভিযান ও মাদুরোর গ্রেপ্তার
মাচাদোর এই উপহার দেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি সাহসী অভিযান চালায়। এই অভিযানে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে আটক রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
মাচাদো জোর দিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযান ভেনেজুয়েলার জনগণ কখনো ভুলবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি যা করেছি, তা নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই।’ এই বক্তব্যে তার দৃঢ় অবস্থান ও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
ভেনেজুয়েলায় ফেরার পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মাচাদো আরও জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন। মাদ্রিদে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সবাইকে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ২৭ বছর আমরা যে সংগ্রাম করেছি, তা ছিল এমন একটি দিনের জন্য—যেদিন আমরা একসঙ্গে ফিরে এসে একটি স্বাধীন দেশ গড়ে তুলব।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। মাচাদো এখনো জানাননি তিনি এই নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যেখানে মাদুরো পুনর্নির্বাচিত হন, যা বিরোধীরা কারচুপি বলে দাবি করে। এই প্রেক্ষাপটে মাচাদোর বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভেনেজুয়েলার ভূমিকা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাচাদোর সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি প্রতীকী অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে পারে।



