বিচার বিভাগের সংস্কারে নরওয়ে ও ইউএনডিপির চুক্তি, লক্ষ্য স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র
বিচার সংস্কারে নরওয়ে-ইউএনডিপি চুক্তি, লক্ষ্য স্থিতিশীলতা

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সংস্কারে নরওয়ে ও ইউএনডিপির ঐতিহাসিক চুক্তি

দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে বিচার খাতের সংস্কারে একটি যুগান্তকারী চুক্তি সই করেছে ঢাকায় অবস্থিত নরওয়ে দূতাবাস এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নরওয়ে দূতাবাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ

এই চুক্তির আওতায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদী বিচার সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করবে নরওয়ে। এ লক্ষ্যে ইউএনডিপির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর ও অংশীদারিত্বের বিবরণ

চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইউএনডিপি এবং নরওয়ে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করবে।

সংস্কার উদ্যোগের প্রধান কার্যক্রম

উদ্যোগটির অধীনে বিচার বিভাগীয় স্ব-প্রশাসনকে আরও কার্যকর করতে সচিবালয়ের নবনিযুক্ত কর্মীদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, সরকার, আইন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপ জোরদার করা হবে। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা গঠনে ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে।

এই চুক্তি বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। নরওয়ে ও ইউএনডিপির এই যৌথ উদ্যোগটি দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রক্রিয়ায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।