ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে পদত্যাগ করলেন হোয়াইট হাউস কমিশনের সদস্য
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশনের একমাত্র মুসলিম নারী সদস্য সামিরা মুনশি তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক নিযুক্ত হওয়া মুনশি তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের 'অন্যায় ও নৃশংস' কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা
সামিরা মুনশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি লিখেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের 'অবৈধ যুদ্ধ' তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। এই সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বা কংগ্রেসের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই শুরু করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মুনশি তার পোস্টে স্পষ্টভাবে বলেন, 'আমার নাম সামিরা মুনশি। আমি হোয়াইট হাউস রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশনের উপদেষ্টা হিসেবে প্রেসিডেন্টের নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য। আজ আমি দেশে ও দেশের বাইরে এই প্রশাসনের অন্যায় ও নৃশংসতার প্রতিবাদে পদত্যাগ করছি।'
ইসরাইলকে সমর্থন ও বেসামরিক হতাহতের জন্য প্রশাসনের দায়
ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মুনশি কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে সামরিক হামলায় শিশুসহ বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য সরকার দায়ী। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এসব পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ার জন্য, যাকে তিনি 'গণহত্যাকারী রাষ্ট্র' বলে অভিহিত করেন।
মুনশি আরও উল্লেখ করেন যে তিনি কোনো ভয়ভীতি বা চাপের কারণে পদত্যাগ করছেন না। তিনি বলেন, 'আমি পদত্যাগ করছি, কারণ আমি এই কমিশনের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অন্যায় সরাসরি দেখেছি, এবং এর সঙ্গে আর কোনোভাবেই যুক্ত থাকতে চাই না।'
এই পদত্যাগের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির সমালোচনার মাঝে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামিরা মুনশির এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থানের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
