কাশ্মীর কখনো ভারতের অংশ ছিল না: জাতিসংঘে পাকিস্তান
কাশ্মীর কখনো ভারতের অংশ ছিল না: পাকিস্তান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাকিস্তান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, বর্তমানেও নয় এবং ভবিষ্যতেও হবে না। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অংশ দাবি করার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার অধিকার (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে এই মন্তব্য করেন পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি।

পাকিস্তানের বক্তব্য

১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় এখনো রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জম্মু-কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন উভয় সংকটের প্রাসঙ্গিকতা উঠে এসেছে এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী এগুলোর সমাধান জরুরি।

কাশ্মীর ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদ

রাষ্ট্রদূত আসিম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টির বেশি চিঠি বা যোগাযোগ আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে, যা প্রমাণ করে যে সাত দশকের বেশি সময় পরও কাশ্মীর বিরোধ নিরাপত্তা পরিষদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বাস করে, দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তির জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি প্রয়োজন এবং কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রদান করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ

পাকিস্তানি প্রতিনিধি ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বলেন, গাজার পরিস্থিতি নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় শীর্ষ অগ্রাধিকার। রক্তপাত বন্ধে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিষদ ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং আশার আলো দেখায়। এই প্রস্তাব পুরোপুরি ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে বাস্তবায়ন অপরিহার্য। পাকিস্তান ১৯৬৭ সালের পূর্ব সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

শান্তিরক্ষা ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা

রাষ্ট্রদূত আসিম আহমেদ জানান, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও বিশেষ রাজনৈতিক মিশনগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য। পাকিস্তান শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে এবং মিশনগুলোকে কার্যকর, পর্যাপ্ত সম্পদসমৃদ্ধ ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো একটি অধিকতর গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বড় উদ্বেগের বিষয়। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য পদের সম্প্রসারণ এবং ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন লক্ষ্যের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন তিনি।