প্রেমঘটিত ঈর্ষায় খুন, শিশুর নোটবুকের সূত্রে ধরা খুনিরা
প্রেমঘটিত ঈর্ষায় খুন, শিশুর নোটবুকে মিলল সূত্র

ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হওয়া নতুন প্রেমিককে হত্যার অভিযোগে এক নারী, তার সাবেক প্রেমিক ও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রেমঘটিত ঈর্ষা থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটলেও কোনও সাক্ষী বা সূত্র ছিল না। শেষ পর্যন্ত একটি শিশুর স্কুল নোটবুকের সূত্র ধরে খুনিদের নাগাল পেয়েছে পুলিশ।

নিহতের পরিচয় ও মরদেহ উদ্ধার

নিহত ব্যক্তির নাম পাপ্পু ওরফে বীরু জাট, তিনি রাজস্থানের বাসিন্দা। মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলার একটি সেতুর নিচে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বীরুর মরদেহ যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তার হাত-পা বাঁধা এবং মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিল। মরদেহটি পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

ঘটনাস্থলে পাওয়া জিনিসপত্র

ঘটনাস্থলে মরদেহের পাশে শুধু একটি ব্যাগ, চিরুনি, এক জোড়া জুতা এবং একটি শিশুর বাড়ির কাজের (হোমওয়ার্ক) খাতা পাওয়া যায়। কোনও সাক্ষী বা স্পষ্ট মোটিভ না থাকায় পুলিশ একে ক্লু-হীন মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ওই নোটবুকের লেখা দেখে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সন্ধান পায়। সেই শিক্ষকের মাধ্যমে পুলিশ ওই শিশুর বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পরিবারটি কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ। এরপর সোর্স ও ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ উজ্জ্বল জেলা থেকে ওই পরিবারটিকে খুঁজে বের করে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পরিবারের সদস্য রীনা কিরার হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রীনার সঙ্গে আগে অরুণ প্যাটেল নামে এক যুবকের সম্পর্ক ছিল। অরুণের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ফেসবুকের মাধ্যমে বীরুর সঙ্গে রীনার বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা হয়। বীরু প্রায়ই রীনার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। বিষয়টি সহ্য করতে পারেননি সাবেক প্রেমিক অরুণ। তিনি বীরুকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৯ এপ্রিল বীরুকে রীনার বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই অরুণ ও তার এক সহযোগী ওত পেতে ছিলেন। বীরু ঘরে ঢোকামাত্রই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি বস্তায় ভরে হাইওয়ের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেফতার ও জব্দকৃত জিনিসপত্র

গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্তরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেসবল ব্যাট, মরদেহ বহনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে