কেরালায় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসের ধোঁয়াশা, সময় শেষ ২৩ মে
কেরালায় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসের ধোঁয়াশা

ভারতের চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলেও একমাত্র কেরালায় এখনও সরকার গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু ইতোমধ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যথাক্রমে শুভেন্দু অধিকারী ও সি জোসেফ বিজয়কে পেয়েছে। আসামেও হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। তবে কেরালায় জয়ী হয়েও মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি কংগ্রেস। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।

সময় সীমা ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

কংগ্রেসের হাতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের জন্য আর মাত্র ১০ দিনের মতো সময় আছে। কারণ, কেরালার বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৩ মে। ভারতের সংবিধানের ১৭২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একটি বিধানসভার মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর সেটি সয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেরালার বর্তমান বিধানসভা ২০২১ সালের ২৪ মে গঠিত হয়েছিল, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৩ মে শেষ হচ্ছে।

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া

এই সময়ের মধ্যে জয়ী দল বা জোটকে সরকার গঠনের দাবি জানাতে হয় এবং রাজ্যপাল তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের আহ্বান জানান। এরপর একজন প্রো-টেম স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ পাঠ করান এবং আস্থা ভোট পরিচালনা করেন। যদি কোনও দল সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভা গঠন অসম্ভব

মুখ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত না করে আস্থা ভোটে জেতা প্রায় অসম্ভব। সংবিধানের ১৬৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ দেবেন এবং এরপর মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত কোনও মন্ত্রিসভা গঠন করা সম্ভব নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কে হচ্ছেন কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এখন মূলত তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। জনগণের কাছে জনপ্রিয় ভি ডি সাতিসান, নবনির্বাচিত বিধায়কদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা কে সি ভেনুগোপাল এবং রাজ্যের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালা।

ভেনুগোপালের ক্ষেত্রে জটিলতা

তবে ভেনুগোপালকে বেছে নেওয়া হলে একটি ছোট জটিলতা তৈরি হতে পারে, কারণ তিনি বর্তমান বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য (বিধায়ক) নন। তবে সংবিধানে এটা নিয়ে কোনও বাধা নেই। ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বিধায়ক না হয়েও মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। তবে শর্ত হলো, দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে তাকে বিধানসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে স্পষ্ট করে বলেছিল যে, এই নিয়মটি মুখ্যমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।