ম্যাক্রোঁ-মেলোনির সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, আঁতিবে শীর্ষ বৈঠক
ম্যাক্রোঁ-মেলোনির সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, আঁতিবে বৈঠক

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও তিক্ততার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। ফ্রান্স ও ইতালির মধ্যকার প্রায়ই টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের সমুদ্রতীরবর্তী শহর আঁতিবে তাদের প্রথম দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে মেলোনিকে আপ্যায়ন করবেন ম্যাক্রোঁ। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের পর ম্যাক্রোঁর আপ্যায়ন

ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী ডানপন্থি নেতা মেলোনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের পর ম্যাক্রোঁ তাকে আপ্যায়ন করতে যাচ্ছেন। মেলোনি ফরাসি রিভিয়েরায় ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ২০২১ সালে কৌশলগত জোটসংক্রান্ত একটি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর, এটিই হতে যাচ্ছে দুই নেতার প্রথম বৈঠক। ওই চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্স-ইতালি সম্পর্ককে ফ্রান্স-জার্মানি সম্পর্কের সমপর্যায়ে উন্নীত করা হয়।

কৌশলগত খাতে সহযোগিতা গভীর করার সুযোগ

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই শীর্ষ বৈঠক প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক জ্বালানি ও মহাকাশসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে ফ্রান্স-ইতালি সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।’ ভূমধ্যসাগর উপকূলের মনোরম ভিলা আইলেনরকে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের আগে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, ‘আমাদের পরস্পরকে প্রয়োজন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউরোপের মধ্যপন্থি নেতা ম্যাক্রোঁ এবং ডান ও কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর জোটনেতা মেলোনির মধ্যে সম্পর্ক প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দুই নেতা স্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র না হলেও তারা পরস্পরের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে গত বছরের জুনে রোমে দীর্ঘ একান্ত বৈঠকের পর সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়। এ বছরের এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মেলোনি লাল রঙের একটি আলফা রোমিও গাড়িতে করে এলিসি প্রাসাদে পৌঁছান। সেখানে ম্যাক্রোঁ তাকে স্বাগত জানান।

সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা

ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্সেস পো-এর ইতালি বিশেষজ্ঞ মার্ক লাজার বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও ম্যাক্রোঁ ও মেলোনি সম্পর্কের উন্নয়নের সাম্প্রতিক ধারা এগিয়ে নিতে চেষ্টা করবেন। দীর্ঘদিন ধরেই মেলোনি নিজেকে ইউরোপ ও ট্রাম্পের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। তবে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। ট্রাম্পের ‘অবিরাম ও অকারণ আক্রমণের’ সমালোচনাও করেন তিনি। মার্ক লাজার বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে খুশি করবে।’

মতৈক্য ও মতভেদ

কিছু বিষয়ে ম্যাক্রোঁ ও মেলোনির অবস্থান কাছাকাছি। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার মারকোসুর জোটের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসীদের জন্য আটক কেন্দ্র স্থাপনের ইতালির পরিকল্পনার মতো অন্য অনেক বিষয়ে তাদের মতভেদ রয়েছে। ম্যাক্রোঁর বিপরীতে মেলোনি ইউক্রেনে ইতালীয় সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কিয়েভকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার একই অবস্থান।

প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষর

বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে একটি রোডম্যাপে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইউক্রেনকে সরবরাহ করা ফ্রান্স-ইতালির যৌথ এসএএমপি/টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া পারমাণবিক জ্বালানি খাতে একটি সহযোগিতা চুক্তি এবং ইলন মাস্কের স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিকল্পিত ইউরোপীয় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।