ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পরপরই মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) একটি সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পূর্বাভাস দেয়। তাদের হিসাবে এই দুর্যোগে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এত দ্রুত কীভাবে এই সংখ্যাটি অনুমান করা সম্ভব হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পেজার মডেল: দ্রুত পূর্বাভাসের চাবিকাঠি
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর ভূ-পদার্থবিদ ভাশান রাইট জানান, ইউএসজিএস এত দ্রুত এই সংখ্যাটি গণনা করতে পেরেছে ‘পেজার’ (প্রম্পট অ্যাসেসমেন্ট অব গ্লোবাল আর্থকোয়েক রেসপন্স) নামক একটি উন্নত মডেলিংয়ের সাহায্যে। এই মডেলটি ভূমিকম্পের পরপরই বিভিন্ন ডেটা একত্রিত করে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির একটি দ্রুত অনুমান দেয়।
ভাশান রাইট বলেন, “মূলত এটি ভূমিকম্পের মাত্রা, গভীরতা, স্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঐতিহাসিক ভূমিকম্প এবং ওই এলাকার ভবনগুলোর কাঠামোগত অবস্থার মতো সমস্ত জানা তথ্যকে একসাথে আমলে নেয় এবং এরপর কী ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে সেটির একটি পূর্বাভাস দেয়।”
পূর্বাভাসের নির্ভরযোগ্যতা
ভাশান রাইট আরও বলেন, অধিকাংশ সময়ই পেজার-এর দেওয়া এই পূর্বাভাস প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যার ‘খুব কাছাকাছি’ হয়ে থাকে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি একটি মডেল-ভিত্তিক অনুমান, যা বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি থেকে ভিন্ন হতে পারে।
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর ইউএসজিএস দ্রুত এই পূর্বাভাস প্রকাশ করে জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় সহায়তা করছে। সূত্র: আল জাজিরা।



