সিলেটে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১০টিই প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও সিলেট সদর উপজেলা। বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
বন্যা পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণ
বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকাজে নৌকা ও স্পিডবোট ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণের অভাবে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানান, 'আমরা উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'
সরকারের পদক্ষেপ
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেটে ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, 'বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দুর্গতদের পাশে থাকার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।'
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা
প্রতি বছর সিলেটে বন্যা দেখা দেওয়ায় স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এ ছাড়া বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সিলেটবাসী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।



