কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে, ২০ গ্রাম প্লাবিত
কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। আজ সোমবার দুপুরে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়ারহাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মালিয়ানী, তেলিয়ানীরপাড়, বড়মানীসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

বাঁধ ভাঙার কারণ ও পরিস্থিতি

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আজ দুপুর ১২টায় ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে দুধকুমার নদের পানি বেড়ে বাঁধে ধস দেখা দেয়। রোববার বিকেলে বাঁধের একটি অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মিয়াপাড়া, মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ও বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকেছে। তিনি আরও জানান, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাউবোর ব্যাখ্যা

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সমতলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধকুমার নদের পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে দুধকুমার নদের পাড়ে একটি নিচু সড়ক তলিয়ে গিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, 'আমরা দুধকুমার নদের পাড় দিয়ে বেড়িবাঁধ তৈরির চেষ্টার সময় মুড়িয়ারহাট এলাকার ওই জায়গায় জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায় বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই অংশ দিয়েই পানি ঢুকেছে।' সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, 'বাঁধ ভাঙার বিষয়টি আমি জেনেছি। পাউবোকে জানানো হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধের ভাঙনকবলিত স্থান মেরামতের জন্য রওনা দিয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি।'