কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদী ইতিমধ্যে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীটির পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। পাশাপাশি তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটা নদী বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক সীমায় পৌঁছেছে। সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের চিত্র
গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে। এছাড়া রংপুরের বদরগঞ্জে ৯৩ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামে ৮২ মিলিমিটার, চিলমারী ও নীলফামারীর ডালিয়ায় ৮০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজান অঞ্চলে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ২০৩ মিলিমিটার এবং আসামের ডিব্রুগড়ে ১০৫ মিলিমিটার অতিভারি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা
বুলেটিন অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুরে তিস্তা নদী, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে যাদুকাটা নদী সতর্ক সীমায় রয়েছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে একটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আগামী দিনের পূর্বাভাস
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয়ে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী তিন দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে, যা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে।
বিভাগভিত্তিক সতর্কতা
রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিন আরও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা এবং ৪৮ ঘণ্টায় ধরলা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। কুড়িগ্রামে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বাড়লেও ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি কমেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
অন্যান্য অঞ্চলের অবস্থা
ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোতে আগামী তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির কারণে পানি কিছুটা বাড়তে পারে, তবে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না। চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরি, সেলোনিয়া, ফেনী ও সাঙ্গু নদীর পানিও আগামী তিন দিনে বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।



