টানা এক সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেঁড়িবাধ ভেঙে ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। গত দুদিন বৃষ্টি কমলেও রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে আবারও ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। এখনো দুই উপজেলার সিংহভাগ ঘরবাড়ি পানির নিচে।
পানিবন্দি এলাকায় দুর্ভোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে কিছু অসাধু চক্র মাছ শিকারের জন্য পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা তীব্র জলাবদ্ধতার কারণ। কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী, চিন্নি খাইয়ে পাড়া, শাহজীর পাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা, ধুপি পাড়া, দক্ষিণ ধূরুং, উত্তর ধূরুং, বাকখালীসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমর সমান পানি জমেছে। দ্বীপের সড়কেও পানি উঠে ভোগান্তি বাড়ছে।
পেকুয়ার চিত্র
পেকুয়া উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী, পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম পানিবন্দি। সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শনিবার ইউএনও এলেও তাদের কথা শোনেননি। তারা রাতে ঘুমাতে পারছেন না, ছেলেমেয়ে না খেয়ে রয়েছে। কেউ সাহায্য করছে না বলে দাবি তাদের।
ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য
বড়ঘোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে স্লুইসগেট বন্ধ করে মাছ ধরার কারণে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। তিনি দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। কৃষক হারুন যুগান্তরকে জানান, প্রথম রাতেই তার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। পানির উচ্চতা এত বেশি ছিল যে ঘরের হাঁড়ি-পাতিলসহ আসবাবপত্র ভেসে গেছে। অল্প কিছু জিনিস উদ্ধার করে পরিবার নিয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি কান্নায় ভেঙে বলেন, তার মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব। এক সপ্তাহেও কেউ খোঁজ নেয়নি।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
কুতুবদিয়া ইউএনও মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্লুইসগেট ও কালভার্ট নজরদারিতে ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন তদারকি করছে। পানিবন্দি পরিবারের জন্য শুকনো খাবার বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পেকুয়া ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাতটি ইউনিয়নের জন্য ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা চাওয়া হবে। শুকনো খাবার বিতরণ চলমান রয়েছে।



