কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কুড়িগ্রামে একজনের মৃত্যু, ১২ নৌকা ভুট্টাখেতে বিধ্বস্ত
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া ঝড়ে নদীর ঘাটে থাকা ১২টি নৌকা ভেঙে চুরমার হয়ে পার্শ্ববর্তী ভুট্টাখেতে পড়ে গেছে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে চিলমারী ইউনিয়নের গাজিরপাড়া নৌকাঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে মিন্টু মিয়া ও ফরিদ উদ্দিন নৌকা বাঁধতে যান। প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন।
ঝড়ের তাণ্ডবে ঘাটে থাকা প্রায় ১২টি নৌকা ভেঙে পার্শ্ববর্তী ভুট্টাখেতে উঠে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় প্রচুর শিলাবৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নে ভুট্টাখেতসহ বিভিন্ন ফসলেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনা
মৃত মিন্টু মিয়া (৫০) চিলমারী ইউনিয়নের শাহাবুদ্দিন রহমানের ছেলে। ঝড়ের সময় তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাড়িতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিখোঁজ ফরিদ উদ্দিন (৪৫) একই এলাকার এছাহক মেম্বারের ছেলে বলে জানা গেছে। ঝড়ের সময় তিনি নদীতে নিখোঁজ হয়ে যান। রোববার সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের জন্য নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বিকাল পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ক্ষয়ক্ষতি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঝড়ে শিলাবৃষ্টির কারণে অষ্টমীরচর ইউনিয়নে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয়রা জানান, এই আকস্মিক দুর্যোগে তাদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং তারা দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের আশা করছেন।
এই ঘটনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় অবকাঠামো ও সতর্কতা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করছেন এলাকাবাসী।



