দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি: কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা, ফসলের ক্ষতি আশঙ্কা
বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি, কৃষকদের উৎকণ্ঠা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি: কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও ফসলের ক্ষতি আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকার পর এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন। সর্বশেষ রোববার (১৫ মার্চ) সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ঘটে। গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়ও শিলাবৃষ্টিসহ ঝুমবৃষ্টি হয়েছিল।

সুনামগঞ্জে কৃষকদের চরম দুশ্চিন্তা

ইত্তেফাকের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধির তথ্যমতে, রোববার সকালে শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭ হাওরে ১০ লাখ কৃষক দুই লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন। মাসখানেক পরই তারা এই কষ্টের ফলানো ধান গোলায় তুলবেন বলে আশা করছিলেন।

সুনামগঞ্জের জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, "জেলার পাঁচ উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এতে ধানের এখনও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ফসলের ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"

কুড়িগ্রামে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

শনিবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদদাতা। স্থানীয়দের মতে, শিলাবৃষ্টি প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিনিট স্থায়ী ছিল, যা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। রৌমারী সদর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, "শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়তে শুরু করে। শিলাবৃষ্টি দীর্ঘ হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছি।"

রৌমারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের কারণে প্রায় ৩৩৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • বোরো ধান: দুই হেক্টর
  • ভুট্টা: ৩০৫ হেক্টর
  • গম: ২০ হেক্টর
  • চিনা: চার হেক্টর
  • মরিচ: এক হেক্টর
  • চিনা বাদাম: এক হেক্টর
  • সূর্যমূখী: চার হেক্টর
  • কালোজিরা: দুই হেক্টর

তিনি আরও বলেন, "আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ফসলের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছি।"

আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও রাজধানীর অবস্থা

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, "কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শিলাবৃষ্টির তীব্রতা খুব বেশি ছিল। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।"

অন্যদিকে, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঝুমবৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি দেখা গেছে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, লিংক রোড, গুলশান, ভাটারা, শাহবাগ ও বাংলামোটর এলাকায় শিলাবৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টি জনজীবনে এক পশলা প্রশান্তি বয়ে আনলেও, শিলাবৃষ্টির কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টির এই ঘটনা কৃষি খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, এবং আবহাওয়া বিভাগের সতর্কতা মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।