বাবার ১০ বিয়ের প্রতিবাদ করায় ছেলেকে হত্যা, বাবাই নেতৃত্বে
বাবার ১০ বিয়ের প্রতিবাদ করায় ছেলেকে হত্যা, বাবাই নেতৃত্বে

বরগুনার আমতলী উপজেলায় বাবার দশটি বিয়ের প্রতিবাদ করায় ছেলে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন কাজীকে (৩৫) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী ও চাচাতো ভাই গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজীসহ ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের মো. মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর ছেলে এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে বাবাসহ সন্ত্রাসীরা পালিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দুইজনকে আটক করে আমতলী থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে। পুলিশ তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাবা-ছেলের বিরোধের ইতিহাস

জানা গেছে, বাবা মিজানুর কাজী দশটি বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। দুই বছর আগে রিপন কাজী বাবাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন। এর প্রতিশোধ নিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা ছেলেকে মারধর করেন। কিন্তু তাতেও থামেননি মিজানুর কাজী; তিনি ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

এদিকে শেখ হাসিনার পতনের পর চাচাতো ভাই রিফাত কাজীর সঙ্গে রিপন কাজীর আধিপত্য নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। নিহতের ভাই সাব্বির কাজী অভিযোগ করেন, বাবা মিজানুর কাজী এই দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে তার ভাইয়ের ছেলে সজিব কাজী, ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তাদের সহযোগী রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীকে নিয়ে রিপন কাজীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী

প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, “আমি আর রিপন কাজী রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজারঘোনা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে গগণখা নামক স্থানে পৌঁছামাত্রই রাসেল কাজী চাচাতো ভাই রিপন কাজীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ আমরা সড়কে লুটিয়ে পড়ি। আমি দৌড়ে খালে পড়লেও রিপন কাজীকে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।” স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, “আমার বাবা মিজানুর কাজী ১০টি বিয়ে করেছেন। ভাই রিপন কাজী এর প্রতিবাদ করলে তার সঙ্গে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অপরদিকে আমার চাচাতো ভাই সজিব কাজীর পরিকল্পনায় বাবার নেতৃত্বে ও চাচাতো ভাই রিফাত কাজী ও তাদের সহযোগীরা আমার ভাইকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”

মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর বিচার চাই। আমার স্বামীর ১০ বিয়েতে বাধা দেওয়ায় সন্তানকে খুন হতে হলো।” তিনি পটুয়াখালী সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পুলিশি ব্যবস্থা

আমতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জালাল উদ্দীন ফকির বলেন, “নিহত রিপন কাজী ইউনিয়ন শ্রমিক দল সভাপতি ছিলেন। তাকে এভাবে হত্যা করা হবে তা কল্পনায়ও ভাবিনি। এ ঘটনার বিচার চাই।”

আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা দুইজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের পটুয়াখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনাস্থল পটুয়াখালী হওয়ায় তারাই আইনি ব্যবস্থা নেবে।”

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নিহতের লাশ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।