পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, মিয়ানমার হয়ে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থনৈতিক করিডরের সম্ভাবনা ও পর্যালোচনা
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘যদি অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হয়, তাহলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে এতে কোনও জটিলতা বা সমস্যা আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি প্রস্তাব। আমরা প্রস্তাবটিকে সাধুবাদ জানাই, কারণ এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে কতটা কার্যকর বা কোনও জটিলতা তৈরি করবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ভারতের উদ্যোগের প্রসঙ্গ
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, অতীতে ভারতের উদ্যোগে করিডোর নিয়ে যখন আলোচনা হয়েছিল, তখন একটা ভিন্ন পেক্ষাপট তৈরি হয়। বর্তমান প্রস্তাব নিয়েও তেমন কোনও জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না। জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিশ্লেষণ করছে এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ‘এ সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনও পক্ষের মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই’— চীনের এমন মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, সব দেশের সঙ্গেই স্বতন্ত্র সম্পর্ক থাকবে। চীনের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক থাকবে, তেমনি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও থাকবে। আমরা মনে করি না, এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে আরেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে।’ তিনি বলেন, ‘সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ হাসিল করাই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তারা আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।
‘টু প্লাস টু’ সংলাপ ও তিস্তা প্রকল্প
প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের চাহিদাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হবে। আমরা যদি দেখি এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য উপকারী এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয়, তাহলে অবশ্যই তা বিবেচনা করবো।’ তিনি আরও জানান, ‘টু প্লাস টু’ সংলাপের প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সমীক্ষাটি এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, চীন তা দিতে সম্মত হয়েছে। শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনার আরও অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় তারা সহায়তা করতে চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনও শেষ হয়নি, শুরু হয়েছে। আগে যেখানে কাজ থেমে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সেখান থেকেই এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’



