জিম্বাবুয়েতে বেকারত্বের হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশটির তরুণ প্রজন্মকে চরম দুর্দশায় ফেলেছে। কাজের অভাবে প্রতিদিন শত শত তরুণ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশটি গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
বেকারত্বের ভয়াবহ চিত্র
জিম্বাবুয়ে ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস এজেন্সির (জিমস্ট্যাট) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বেকারত্বের হার ৯০ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে এই হার আরও বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশটির অর্থনীতি গত এক দশকে প্রায় ৬০ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়েছে।
রাজধানী হারারে ও অন্যান্য শহরে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন তরুণরা। কিন্তু চাকরির সুযোগ খুবই সীমিত। যারা চাকরি পাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন, যেখানে মজুরি ও কাজের নিরাপত্তা নেই বললেই চলে।
বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা
বেকারত্বের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য তরুণ জিম্বাবুয়ে ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, এমনকি যুক্তরাজ্য ও কানাডায় পাড়ি জমাচ্ছেন। জিম্বাবুয়ে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছেন।
হারারের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী টিনা মুকান্দা বলেন, “এখানে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছি।” তার মতো হাজার হাজার তরুণের একই গল্প।
অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি
জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ২০২৩ সালে ২৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী। সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেও হিমশিম খাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিম্বাবুয়ের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গত এক দশকে ক্রমাগত কমেছে।
সরকারের পদক্ষেপ ও সমালোচনা
জিম্বাবুয়ে সরকার বেকারত্ব কমাতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব ও দুর্নীতি প্রধান বাধা। দেশটির বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কঠোর সমালোচনা করছে।
অর্থনীতিবিদ ড. নোবেল মাইকেল বলেন, “সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই। স্বল্পমেয়াদি সমাধান দিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জিম্বাবুয়ে সরকার দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে খনিজ সম্পদ ও কৃষি খাতের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দুর্নীতি দমন ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
এদিকে, তরুণরা দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশটির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।



