ট্রাম্পের নজিরবিহীন আয়: দায়িত্বকালে ২.২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন
ট্রাম্পের নজিরবিহীন আয়: দায়িত্বকালে ২.২ বিলিয়ন ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বশেষ দায়িত্বকালে অন্তত ২.২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড) আয় করেছেন। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।

আয়ের উৎস ও পরিমাণ

নতুন এক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ট্রাম্পের আয়ের বড় অংশ এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত থেকে। শুধু এই খাত থেকেই তিনি প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। তিনি ‘সেলিব্রেশন কয়েন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন, যা তার চালু করা $TRUMP মিম কয়েনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়।

এ ছাড়া ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল’ নামের একটি ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকেও তিনি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন। এই কোম্পানিটি তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয়ের তুলনা

২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় প্রায় চার গুণ বেড়েছে। ইতিহাসবিদ বারবারা পেরি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে সম্পূর্ণ অদ্ভুত।’

স্বার্থের সংঘাত নিয়ে বিতর্ক

হোয়াইট হাউস অবশ্য বলছে, ট্রাম্প বা তার পরিবার কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়িত নয়। তাদের দাবি, সব সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তবে ইতিহাসবিদরা বলছেন, অতীতের কিছু প্রেসিডেন্টের আত্মীয়রা ব্যবসায় লাভ করলেও, প্রেসিডেন্ট নিজে এত বড় পরিমাণে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার নজির নেই।

সাবেক হোয়াইট হাউস নৈতিকতা উপদেষ্টা রিচার্ড পেইন্টার বলেন, ‘এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত। জনগণের জন্য এটি খুবই উদ্বেগজনক।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতীত প্রেসিডেন্টদের থেকে পার্থক্য

হ্যারি ট্রুম্যান যখন দায়িত্ব শেষে হোয়াইট হাউস ছেড়েছিলেন, তখন সেনাবাহিনী থেকে পাওয়া মাসে মাত্র ১১৩ ডলার (৮৫ পাউন্ড) পেনশন ছাড়া তার কোনো আয় ছিল না। জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগেই তার সব বিনিয়োগ একটি ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্ট’-এর অধীন হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের আগে তার পারিবারিক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছেলেদের হাতে দেন, তবে কোনো ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্ট’-এ সম্পদ রাখেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—তিনি ও তার পরিবার সরাসরি দায়িত্বে থাকাকালেই ব্যাপক ব্যবসায়িক লাভ করেছেন। অতীতে জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন এবং জিমি কার্টারের ভাই ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তা প্রেসিডেন্টের সরাসরি লাভের সঙ্গে তুলনীয় নয় বলে মনে করা হয়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি