যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইউরোপের কোনো দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করে, তাহলে সে দেশের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এ বক্তব্য সতর্কবার্তা হিসেবে নিতে হবে—যে দেশ এ ধরনের কর আরোপ করবে, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো তাদের সব ধরনের পণ্যে সঙ্গে সঙ্গে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ইউরোপের অনেক দেশ এমন কর আরোপের বিষয়ে আলোচনা করছে এবং কয়েকটি দেশ তা কার্যকর করছে।
যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল সেবা কর
যুক্তরাজ্যের ২ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর আছে, যা বড় সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন বাজারব্যবস্থার ওপর প্রযোজ্য। শর্ত অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক ডিজিটাল ব্যবসা থেকে আয় ৫০ কোটি পাউন্ডের বেশি এবং যুক্তরাজ্যে আয় ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি হতে হবে। এই করের আওতায় অ্যাপল, গুগল, মেটা ও অ্যামাজনের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠান পড়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি রাজস্ব এসেছে, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৬৭ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের কর
ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করেছে। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের কর চালু করেছে বা তার পরিকল্পনা করছে।
ট্রাম্পের পূর্বের হুমকি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
গত এপ্রিলেও ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যকে বড় শুল্কের মুখে পড়তে হবে। সাইপ্রাসের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মাইকেল ডেমিয়ানোস বলেছেন, চুক্তি মানা না হলে বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে দ্রুততার সঙ্গে যথাযথ জবাব দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি
২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন দেশের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না।



