যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার রোজভেল্টে অবস্থিত আল ফোরকান মসজিদে জুমআর নামাজ পড়তে গিয়ে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা হলো। মসজিদে প্রবেশের সময় পাশেই পানি, খেজুর ও বিস্কুট রাখা দেখে প্রথমে কিছুটা অবাক লাগে। নামাজ শেষে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, এটি এখানকার একটি পুরনো ঐতিহ্য।
মসজিদের পরিচিতি
রোজভেল্টের এই মসজিদটি বেশ পুরনো। এই অঞ্চলে আরবীয়, আফ্রিকান ও বাঙালি অভিবাসীদের বসবাস। সবার সহযোগিতায় মসজিদটি গড়ে উঠেছে। এক থেকে দেড় হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে, এমনকি হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। মসজিদের ইমাম আরবীয় এবং খুতবা দেন ইংরেজিতে।
বিবিধ পোশাকে নামাজ
এখানে বাহারি পোশাক পরে সবাই নামাজ পড়তে আসেন। একেক জনের পোশাক একেক রকম, কিন্তু সবাই সুশৃঙ্খলভাবে নামাজে অংশ নেন।
খাবার বিতরণের রহস্য
ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় সাত বছর ধরে বসবাসকারী শামসুল করিম জানান, প্রতি শুক্রবার বা যেকোনো ওয়াক্তে নামাজের পর প্রায়ই খাবার দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “এখানকার মসজিদের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। অভিবাসীসহ স্থানীয় মুসলিমরা এখানে নামাজ পড়েন। একসঙ্গে এক-দেড় হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারে। ঈদের সময় তা আরও বাড়ে, তখন অনেক সময় রাস্তায় নামাজ আদায় করতে হয়। আর খাবারের বিষয়টি হলো— এটি মসজিদ কর্তৃপক্ষ নয়, বরং মানুষজন নিজেদের উদ্যোগে দিয়ে থাকে। আজ যেমন খেজুর, বিস্কুট ও পানি ছিল, আবার অন্য সময় অন্য আইটেম থাকে। কারও মন চাইলে মানুষকে সেবা করতে, তাদের খাবার ও পানীয় দিতে চায়, তখনই এসব আয়োজন হয়। এটা এখানে সংস্কৃতি হয়ে গেছে। এছাড়া রমজান মাসে ভিন্ন আয়োজনও থাকে।”
সারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলন
শুধু ফিলাডেলফিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মসজিদেই এমন প্রচলন আছে। শামসুল করিম বলেন, “আমাদের দেশে যেমন মিলাদের মিষ্টি দেওয়া হয়, কিংবা তেহারি বা অন্য কিছু, কোনও উপলক্ষ্যকে সামনে রেখে। এখানে আবার শুধু অন্যদের সেবা করার জন্য কিংবা মনের শান্তির জন্য লোকজন খাবার দিয়ে থাকে। এটা সবার মধ্যে বন্ধন অটুট করে।”
অর্থায়ন
ফিলাডেলফিয়ার বৃহৎ শীতাতপ মসজিদটির ব্যয় অভিবাসীরা নিজেরাই বহন করেন। স্থানীয় মুসলিমরাও সাহায্য করে থাকেন। বিশেষ করে ঈদের সময় বড় খরচ উঠে আসে বলে জানা গেছে।



