আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ ঘোষণা দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা দেশটির পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সহিংসতার পুনরাবৃত্তি বন্ধের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।
চলমান সংঘাত ও হতাহত
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সংঘর্ষে শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও রোডম্যাপ
২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি রোডম্যাপের অংশ হিসেবে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে লেবানন সরকার দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়ে আসছে। তবে জুন মাসে হওয়া একটি চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর উত্তর দিকে সরে যাওয়ার কথা বলা হলেও, ইসরাইলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
আলোচনার সময়সূচি
ফোনালাপে দুই নেতা ২৩ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বৈঠকের মাধ্যমে দুই সার্বভৌম দেশ স্থায়ী শান্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে।
পূর্ববর্তী আলোচনা
ইসরাইল ও লেবানন এপ্রিল মাসে সরাসরি আলোচনার প্রথম দফা বৈঠক করে, যা ১৯৯৩ সালের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল। এরপর জুনে আরেক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় পক্ষ কয়েক দফা যুদ্ধবিরতি বা সংঘর্ষে বিরতির ঘোষণা দেয়। তবে এসব আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, ফলে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। চলমান সংঘাত এই সমঝোতার বাস্তবায়নেও বাধা সৃষ্টি করছে। এ কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের সমালোচনাও করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই শুক্রবার অভিযোগ করেন, ইসরাইল 'স্থায়ী যুদ্ধের নীতি' অনুসরণ করছে।



