যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের কুইন্স এলাকায় এক বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—স্বামী, স্ত্রী ও তাদের ১০ বছর বয়সী মেয়ে। পরিবারের অপর এক সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকার একটি বাড়ি থেকে শুক্রবার রাতে গুলির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি মৃতদেহ এবং একজন আহতকে উদ্ধার করে। আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এটি একটি পারিবারিক কলহের ঘটনা হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী এক প্রতিবেশী জানান, ‘আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম পটকা ফুটছে। পরে বুঝতে পারি এটি গুলির শব্দ। আমরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ফোন করি।’
স্থানীয় কমিউনিটির প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা নিহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আমরা আশা করি পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে।’
স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই ঘটনায় মর্মাহত। আমরা দোয়া করি নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহত ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’
তদন্তের অগ্রগতি
নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, তারা ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত উদ্ধার করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করেছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক কলহের সম্পর্ক থাকতে পারে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা পুলিশের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। আমরা চাই অপরাধীরা যেন দ্রুত গ্রেপ্তার হয় এবং আইনের আওতায় আসে।’



