এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

নতুন সরকার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

সরকারের জোরালো পদক্ষেপ

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে চায়। এ লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথম সপ্তাহেই চিঠি দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকার আজ থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

রপ্তানির নিম্নগতি ও বৈচিত্র্য আনয়ন

রপ্তানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত সংকীর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য যুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি খাতকে সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্ব বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ

বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে খুব সীমিত সুযোগ নিয়ে টিকে আছে। তার মতে, দেশের ‘মার্জিন অব এরর’ খুবই কম, ভুল করার সুযোগ নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নীতিগত সমর্থন দিচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।