পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের তারিখ ঘোষণা
ভারতীয় স্টার্টআপ স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দেশের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল-শ্রেণির রকেটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। বিক্রম-১ রকেটটি, যা ছোট উপগ্রহকে নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে স্থাপনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, ১২ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে বলে কোম্পানি জানিয়েছে।
ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে ভারত
স্কাইরুটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পবন কুমার চন্দনা সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “ইতিহাসের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। একসময় যা একটি সাহসী স্বপ্ন ছিল, এখন তা লঞ্চ প্যাডে দাঁড়িয়ে আছে। বিক্রম-১। ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট।” রকেটটি প্রায় সাত তলা ভবনের সমান উঁচু এবং ৩০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত পেলোড বহনে সক্ষম।
বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা
সংবাদপত্র দ্য হিন্দু জানিয়েছে, স্কাইরুট এক বা দুটি সফল অরবিটাল ডেমোনস্ট্রেশন মিশনের পর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এই রকেটটি ভারতের মহাকাশ শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ২০২০ সালে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। নয়াদিল্লি দ্রুত বর্ধনশীল বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতির একটি বড় অংশ দখল করতে চায়।
ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত সাশ্রয়ী মহাকাশ মিশনের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে এবং এখন এখানে ৪০০টির বেশি মহাকাশ স্টার্টআপ রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির মহাকাশ অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার এবং বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ২-৩%। সরকার অনুমান করছে, আগামী দশকে এই খাত ৪০-৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতের মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গতি পেয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে, এটি রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পরে চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান সফলভাবে অবতরণ করায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয় নভোচারীকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন।



