যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে আগামী কয়েক দিনে ‘হিট ডোমের’ প্রভাবে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে
আবহাওয়াবিদ রায়ান মাউয়ে সতর্ক করে বলেছেন, ৩ জুলাই নর্থ ক্যারোলাইনার র্যা লিতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে। তার ভাষায়, এ তাপপ্রবাহ ‘মুখ গলিয়ে দেওয়ার মতো’ অনুভূতি তৈরি করবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রায় ২৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন নাগরিক ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে থাকবেন। তবে আর্দ্রতার কারণে তা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে। ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে হিট ডোম সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাবে। এ সময়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও ক্যারোলাইনা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দুটি ছোট হিট ডোম তৈরি হবে
আকুওয়েদারের আবহাওয়াবিদদের মতে, শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় আটলান্টিকের ওপর দুটি ছোট হিট ডোম তৈরি হবে। আর্দ্রতার কারণে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরের তাপমাত্রাও ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হতে পারে। জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত এ তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়াবিদ অ্যালেক্স সসনোভস্কি বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে কয়েক দিনের তাপপ্রবাহ তৈরি হচ্ছে। এটি সমতল অঞ্চল থেকে মধ্য-পশ্চিম হয়ে পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
হিট ডোম কী এবং এর প্রভাব
হিট ডোম হলো উচ্চচাপজনিত একটি আবহাওয়া পরিস্থিতি, যা নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের ওপর গরম বাতাস আটকে রাখে। এতে মেঘ তৈরি বাধাগ্রস্ত হয় এবং সরাসরি সূর্যের তাপে ভূমি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিপজ্জনক মাত্রার তাপমাত্রা বজায় থাকে এবং প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। ইউরোপ ও ভারত ইতোমধ্যেই এর প্রভাব অনুভব করছে। এবার সেই প্রভাবের মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: উইয়ন নিউজ



