ভারতের মুম্বাইয়ের ভেন্ডি বাজার এলাকার পাইধোনি অঞ্চলে একই পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ অবশেষে নিশ্চিত করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ ১১ দিন ও ৫৪ দফা পরীক্ষার পর কালিনার ফরেনসিক ল্যাবরেটরি জানিয়েছে, তাদের মৃত্যুর পেছনে দায়ী ছিল তরমুজে থাকা জিঙ্ক ফসফাইড নামক ইঁদুরের বিষ।
ফরেনসিক প্রতিবেদনের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষটি ফলের বাইরে নয় বরং ভেতরে পাওয়া গেছে এবং এটি ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢোকানো হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। নিহতরা হলেন আব্দুল্লাহ দোকাদিয়া (৪৪), তার স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং তাদের দুই মেয়ে আয়েশা (১৬) ও জয়নাব (১২)।
ঘটনার বিবরণ
গত ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে তারা এক পারিবারিক ভোজের পর তরমুজ খেয়েছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর একে একে সবার মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জিঙ্ক ফসফাইড শরীরের ভেতরে ফসফিন গ্যাস তৈরি করে, যা ফুসফুসে ছড়িয়ে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। শরীরের গঠন ছোট হওয়ায় ১২ বছর বয়সী জয়নাব সবার আগে মারা যায় এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সবশেষে মৃত্যু হয় আব্দুল্লাহর।
বিষ শনাক্তকরণের জটিলতা
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বিষ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন ছিল কারণ অসুস্থ হওয়ার পর বমির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা বিষের বড় একটি অংশ বের করে দিয়েছিলেন। ফলে শরীরে থাকা সামান্যতম বিষের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে সাধারণের তুলনায় অনেক বেশিবার পরীক্ষা চালাতে হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ওই রাতে চিকেন পোলাওসহ অন্যান্য যা কিছু খেয়েছিলেন, সেগুলোতে কোনো বিষ পাওয়া যায়নি; বিষ ছিল কেবল তরমুজটিতেই।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
পুলিশ এই ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এখন তদন্তের গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিষটি কীভাবে ফলের ভেতরে এল—এটি কি বিক্রেতার পক্ষ থেকে হয়েছে নাকি এর পেছনে অন্য কারো হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ এই ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করতে সবদিক বিবেচনা করছে। তবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কোনো আর্থিক অনটন বা কলহের প্রমাণ না মেলায় ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসকদের মতামত
চিকিৎসকদের মতে, ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ এক ঘণ্টার মধ্যে পাকস্থলী পরিষ্কার করা সম্ভব হলে হয়তো তাদের প্রাণ বাঁচানো যেত। তবে উপসর্গ দেরিতে দেখা দেওয়ায় সেই সুযোগ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।



