নাটোর মডার্ন সদর হাসপাতালে অসুস্থ মেয়ের সেবায় আসা এক নারীকে তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগীর বাবা নাটোর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তার মেয়েকে জ্বর ও সর্দি নিয়ে শুক্রবার হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করেন। রোববার রাত ১০টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীকে ষষ্ঠ তলার সিঁড়ির একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। পরে অন্য দুই অভিযুক্ত অনিল ও প্রাঙ্গণ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং সেই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে।
ঘটনা প্রকাশ
ঘটনা প্রকাশ পায় যখন ডিউটিতে থাকা নার্সরা শিশুর কান্না দেখে মায়ের দীর্ঘ অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেন। হাসপাতালের আনসার সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিন সন্দেহভাজনকে ষষ্ঠ তলার সিঁড়ি থেকে আটক করে। একজন আনসার সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করেছে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি পরদিন সকালে ঘটনা জানতে পারেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশে খবর দেওয়ার আগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে একটি লিখিত সমঝোতা হয়েছিল। অন্যদিকে, নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মাশিউর রহমান জানান, কেউ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, তবে গুজব শুনে তিনি পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
পুলিশের পদক্ষেপ
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হবে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণ (২৩), যারা নাটোর শহরের আলাইপুর সুইপার কলোনির বাসিন্দা।



