অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং অবৈধ নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া গতিশীল করতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর নিয়ম চালুর দাবি উঠেছে। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষার জন্য আসা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কোর্সে আবেদনের আগে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক দল ‘ওয়ান নেশন’-এর প্রধান সিনেটর পলিন হ্যানসন আজ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি
তিনি অভিযোগ করেন, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের অর্থের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং এই অনিয়মের পরোক্ষ অংশীদারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড ২৬ লাখ অস্থায়ী ভিসাধারী অবস্থান করছেন, যার জন্য এই অব্যবস্থাপনা আংশিক দায়ী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন
সিনেটর হ্যানসন বলেন, এই বিপুলসংখ্যক মানুষের একটি বড় অংশ এমন সব ঘরবাড়ি ও নাগরিক সুবিধা ব্যবহার করছেন, যা প্রকৃত অস্ট্রেলীয়দের প্রাপ্য। এটি স্পষ্ট যে অনেক শিক্ষার্থীর মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা নয়; বরং ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলে অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ মজুরি ও অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সংকট
বিবৃতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের প্রবণতাকে একটি বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরপরই মূল পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং ভুয়া কোর্সে ভর্তি হন। এই প্রক্রিয়ার অন্তর্বর্তী সময়ে তাঁরা একধরনের বিশেষ ভিসায় (ব্রিজিং ভিসা) বছরের পর বছর অবস্থান করেন, যা তাঁদের এখানে কাজ করার ও বসবাসের আইনি সুযোগ দেয়।
অন্তর্বর্তীকালীন ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা
সরকারি হিসাব তুলে ধরে জানানো হয়, এই অন্তর্বর্তীকালীন ভিসা–প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে ২০০ দিন সময় লাগে। আবেদন নাকচ হলে শিক্ষার্থীরা আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন, যা নিষ্পত্তিতে আরও প্রায় ৬৪ সপ্তাহ কেটে যায়। এমনকি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অনেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। কারণ, এ ধরনের আবেদন ঝুলে থাকে প্রায় তিন বছর। প্রথম দফায় নাকচ হলে আবারও আপিল করে অস্ট্রেলিয়ায় অর্থ উপার্জনের সময় বাড়িয়ে নেওয়া হয়।
বিগত মাত্র তিন বছরে এই অন্তর্বর্তীকালীন ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সিনেটর হ্যানসন সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ টেনে বলেন, ২০২৩ সালে সেখানে প্রথম বর্ষের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ছিল ৫৭ দশমিক ২ শতাংশ। সিডনির মতো প্রধান শহরগুলোতে ক্যাম্পাস খোলার একমাত্র উদ্দেশ্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের অর্থ লুফে নেওয়া।
ওয়ান নেশনের প্রস্তাবিত নীতিমালা
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়ান নেশন দল একটি নতুন নীতিমালা প্রস্তাব করেছে। এর অধীন পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া কোনো বিদেশি শিক্ষার্থীকে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান বা কাজের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ভিসা দেওয়া হবে না এবং দেশটির পুনর্বিবেচনা ট্রাইব্যুনালে আপিল করার কোনো সুযোগ থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।



