দেশের বিভিন্ন স্থানে পুশইন নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করলেও এখনও স্বাভাবিক রয়েছে দিনাজপুরের সীমান্তগুলো। এরপরও নজরদারি বৃদ্ধি ও টহল জোরদার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পুশইন ঠেকাতে সীমান্তগুলোতে স্থানীয়দেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলার সীমান্ত পরিস্থিতি
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার মোট ১৩টি উপজেলার মধ্যে আটটি উপজেলাতেই সীমান্ত রয়েছে। এই জেলার মোট সীমান্ত রয়েছে প্রায় ১৪২ কিলোমিটার। বিজিবির ৩টি ব্যাটালিয়নের আওতায় এসব সীমান্তে নিয়মিত টহল ও নজরদারি করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে পুশইনের ঘটনায় দিনাজপুরের সীমান্তগুলোতে নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুশইন ঠেকাতে এলাকার জনগণের সহযোগিতার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
রাধিকাপুর সীমান্তে টহল জোরদার
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাধিকাপুর সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে বিজিবির সদস্যরা টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি হ্যান্ডমাইক নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। কিশোরীগঞ্জ বিওপির আওতায় বিজিবির সদস্যরা মূল সড়কের পাশাপাশি জমির কাদামাটির আইলেও টহল জোরদার রেখেছেন।
সেখানে কর্মরত বিজিবির সদস্যরা জানান, এখন পর্যন্ত এই সীমান্ত স্বাভাবিক রয়েছে। এরপরও পুশইনের মতো ঘটনা যাতে করে না ঘটে সেজন্য সতর্কাবস্থায় রয়েছেন তারা। সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছে। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতিতে বিজিবির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
স্থানীয়দের সহযোগিতা
রাধিকাপুর এলাকার হবিবর রহমান বলেন, ‘আমরাও রাতে উঠে দেখি যে সীমান্তের কোনো লাইট বন্ধ হয়ে গেছে কি না। যদি লাইট বন্ধ হয়ে যায়, সেই সুযোগে বিএসএফ পুশইনের ঘটনা ঘটায়। এজন্য আমরাও বিজিবিকে সহায়তার জন্য সতর্ক রয়েছি।’
ওই এলাকার লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই না সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাক। কারণ এই সীমান্ত এলাকাতেই মাঠে আমাদের কাজ করতে হয়। যদি উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় তাহলে আমাদের কাজ করার অসুবিধা হয়ে যাবে। ফসল ফলানো অসুবিধা হয়ে যাবে।’
বিজিবির বক্তব্য
দিনাজপুর-৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা নেই। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আছে।’



