পাবনায় গত এক সপ্তাহে পৃথক ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় হোসেন আলী নামের এক ব্যক্তিকে সন্তানের সামনেই গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এদিন পৃথক আরেকটি ঘটনায় মনিরুল ইসলাম নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় ছেলে রোহানকে (১২) রাখতে গিয়েছিলেন হোসেন আলী। আগে থেকে সেখানে আশপাশে ওতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা সন্তানের সামনেই তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই হোসেন আলী মারা যান। পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, আলী হোসেন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা পার্টির আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ছুরিকাঘাতে আরেক হত্যা
একই দিন ছুরিকাঘাতে নিহত মনিরুল ইসলাম (২২) পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার শিবরামপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মুন্নাফ আলীর ছেলে ও সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে বিকালে রাকিব ও মনিরুল নামের দুই যুবকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর মধ্যে মনিরুলকে ছুরিকাঘাত করে রাকিব। স্থানীয় লোকজন মনিরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ধর্ষণ-হত্যার জেরে আগুনে দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু
পাবনা সদর উপজেলায় ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের পর হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ চিকিৎসাধীন তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন দুজনের মৃত্যু হয়। সোমবার (৮ জুন) বিকালে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়। পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, এই অগ্নিকাণ্ড ও মৃত্যুর ঘটনায় থানায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়াধীন।
মানসিক হাসপাতালে রোগী নিহত
এদিকে ২ জুন গভীর রাতে দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ভেতরে দুই রোগীর মারামারিতে ইনজামুল নামের এক রোগী নিহত হন।



