ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার সীমান্তের ওপারে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) বিভিন্ন ক্যাম্পে শত শত বাংলাভাষী নারী, শিশু ও পুরুষকে জড়ো করার খবর পাওয়া গেছে। ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক এসব মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁও সীমান্তজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিএসএফ ক্যাম্পে আটকদের অবস্থা
জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকটি বিএসএফ ক্যাম্পে ১২ থেকে ২০ জন এবং কিছু ক্যাম্পে ৩০ থেকে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে দলে দলে আটক রাখা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তের ওপারে ভারতের ভেলাগাছি, সোনামতি, নাটুয়াটলি, বড়বিল্লা ও সাতভিঠা বিএসএফ ক্যাম্পে চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে শত শত বাংলাভাষী দিন কাটাচ্ছেন। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবির ৫০ ব্যাটালিয়নের অধীন কান্তিভিটা ক্যাম্প এলাকায় টহল ও নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
শূন্যরেখায় ঠেলে দেওয়ার ঘটনা
গত বৃহস্পতিবার ভারতের উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জ এলাকার বিপরীতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধসহ মোট ১১ জনকে বিএসএফ শূন্যরেখায় ঠেলে দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা টানা ৪৮ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করেন। অবশেষে রোববার গভীর রাতে বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে ওই ১১ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
বিজিবির নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, দেশের সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি আউটপোস্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজির আহম্মদ জানান, বিজিবি সদস্যরা দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



