খুলনায় যৌথ অভিযানে আরও ৩৪ জন গ্রেপ্তার, ৬ দিনে মোট ৩৪৭
খুলনায় যৌথ অভিযানে আরও ৩৪ জন গ্রেপ্তার, ৬ দিনে মোট ৩৪৭

খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

ছয় দিনে মোট গ্রেপ্তার ৩৪৭

এ নিয়ে গত ৬ দিনে যৌথ অভিযানে মোট ৩৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে যা জানানো হয়েছে

আজ পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা থানায় সাতজন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় নয়জন, লবণচরা থানায় চারজন, হরিণটানা থানায় দুজন, খালিশপুর থানায় চারজন, দৌলতপুর থানায় দুজন, আড়ংঘাটা থানায় দুজন এবং খানজাহান আলী থানায় দুজন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বি কোম্পানির সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

অভিযানে ‘বি কোম্পানির’ সক্রিয় সদস্য ও একাধিক মামলার আসামি শেখপাড়া এলাকার মো. বেল্লাল মোল্যাকে (২৭) গ্রেপ্তার করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও উদ্বেগ

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করে কেএমপি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বল নজরদারি ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। খুলনা মহানগর ও জেলায় বর্তমানে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম বেশি আলোচিত। এর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর বি–কোম্পানি, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, হুমায়ুন কবীরের হুমা বাহিনী, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান শেখের আরমান গ্রুপ, শাকিল শেখের শাকিল গ্রুপ এবং নাসিমুল গণির নাসিম গ্রুপ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে গ্রেনেড বাবুর নেতৃত্বাধীন বি–কোম্পানিকে ঘিরে।

হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে খুলনা নগরে ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে প্রথম আলোয় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।