ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রিক্তা আক্তারকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাকে এখনো জানানো হয়নি যে ওই দুর্ঘটনায় তার বাবা ও সাত বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বৈশামুড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়লে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের আরশ আলী (৭০) এবং তার নাতি আলিফ মিয়া (৭)। আলিফ রিক্তা আক্তারের ছেলে।
দুর্ঘটনায় রিক্তা এবং তার অপর দুই ছেলে—মো. আজমাইন (৯) ও মো. আজিম (২) আহত হয়েছে। রিক্তার ডান হাতের কবজি ও কনুইয়ের মাঝামাঝি অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। আজমাইনের নাক ও মুখে এবং আজিমের ডান হাত ও ঠোঁটের নিচে আঘাত লেগেছে।
চিকিৎসা ও পরিবারের বক্তব্য
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রিক্তা ও তার ছেলেদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রিক্তার চাচা শ্বশুর হোসেন মিয়া জানান, রিক্তা তার বাবা ও তিন সন্তানকে নিয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে মাধবপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি লোকাল বাসে ওঠেন। বাসটি একটি পণ্যবাহী ট্রাককে অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।
রিক্তার ভাগনে মাহিন মিয়া বলেন, 'নানা ও মামাতো ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ এখনো মামি জানেন না। বাড়িতে নিয়ে তাকে বিস্তারিত জানানো হবে।'
সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক সার্জন সোলায়মান মিয়া বলেন, রিক্তার ডান হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



