ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

ভারতের বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। গত সোমবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে আরও ঠিক হয়েছে, এখন থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বৈঠক হবে আগস্ট মাসে, তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে।

বৈঠকের পটভূমি

সম্প্রতি নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই বৈঠকের আয়োজনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দল কনস্টিটিউশন ক্লাব ভাড়া করে বৈঠকের ব্যবস্থা করে। বৈঠকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত তেলাপোকা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ

ফরোয়ার্ড ব্লকের জাতীয় সম্পাদক জি দেবরাজন বৈঠকে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, বেকারত্ব, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সিবিএসসি পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণরা রাস্তায় নেমেছে। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জম্মু-কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ দেবরাজনের প্রস্তাব সমর্থন করেন। তিনি বলেন, জেন-জিদের ক্ষোভের সঙ্গে জোটের শামিল হওয়া উচিত। জোটের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা জরুরি।

রাহুল গান্ধীর বক্তব্য

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ প্রমাণের সময় তিনি একা ছিলেন। এখন সবাই বুঝতে পারছে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে ভোট চুরি করে বিরোধীদের হারাচ্ছে।

অন্যান্য সিদ্ধান্ত

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসআইআর ও ভোট চুরি প্রতিকারে জোট দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনে গিয়ে দরবারের পক্ষে থাকলেও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও আইনজীবী কপিল সিব্বাল চিঠি দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আগামী সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে জোটের ফ্লোর কো–অর্ডিনেশন বাড়ানো হবে। অধিবেশন চলাকালে নিয়মিত বৈঠক বসবে মল্লিকার্জুন খাড়গের অফিসে।

রাজ্যস্তরের সমন্বয়

কেন্দ্রীয় স্তরে জোটবদ্ধ হলেও রাজ্যস্তরে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকের হাত ছেড়ে টিভিকের দিকে কংগ্রেস ঝুঁকে পড়ায় চিড় ধরেছে। খাড়গে বলেন, ভুল–বোঝাবুঝি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে মেটানো উচিত।

অখিলেশ যাদব ও তেজস্বী যাদবের মতো শরিকেরা মনে করেন, কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের আরও বিবেচক হওয়া দরকার।

অর্থনৈতিক সংকট

বৈঠকে শরিকেরা মনে করেন, দেশ চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংকট নিরসনে সরকারের সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা উচিত বলে জোট জানিয়েছে।