নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুরে ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার দুপুরে তিনি এই পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন মেঘনা নদীর ৫০ কোটি লিটার পানি বিশুদ্ধ করে ঢাকা শহরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পরীক্ষামূলক সরবরাহ ডিসেম্বরে
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক ও আংশিক পানি সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করে ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে রাজধানীতে নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, অনুরূপ আরও একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এসব উদ্যোগ রাজধানীর পানির চাহিদা পূরণে দীর্ঘ মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি
এর আগে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সেজান পয়েন্টে প্রকল্পের পানির উৎস পাইপলাইন স্থাপনকাজ (পিকে-১৭ অংশ) এবং শোধনাগারের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, ঢাকা শহরের পানির চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা ছিল। ফলে পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছিল। ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মেঘনা নদীর পানি শোধন করে রাজধানীতে সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়াসা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই ধাপে পানি সরবরাহ সক্ষমতা
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার থেকে প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ সম্পন্ন হলে আরও ৫০ কোটি লিটার পানি প্রকল্পে যুক্ত হবে। ফলে দুই ধাপ মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈনিক পানি সরবরাহ সক্ষমতা দাঁড়াবে ১০০ কোটি লিটারে, যা রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সন্তোষ প্রকাশ ও নির্দেশনা
পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন। এ সময় মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী একান্ত সচিব কৃষিবিদ মো. ইউনুস আলী, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুল ইসলাম (মুরাদ), রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে একনেকে পাস হওয়া প্রকল্পটির প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। সংশোধিত ব্যয় বাড়িয়ে ৮ হাজার ১৫১ কোটি টাকায় করা হয়েছে। এ প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছিল। তবে নানা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। একাধিকবার বাড়ানো হয় প্রকল্পের মেয়াদ। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ঢাকা মহানগরীর মতিঝিল, পল্টন, ফকিরাপুল, উত্তরা, গুলশান, বনানী, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, বাড্ডাসহ সমগ্র মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।



