বাংলাদেশ ও রাশিয়া জনশক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ লক্ষ্যে রাশিয়ায় বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফরে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ায় তিন দিনের সরকারি সফরে গিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি এই প্রস্তাব দেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুশ কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে এবং উভয় পক্ষই শিগগিরই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনশক্তি রপ্তানি দশগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা
আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি দশগুণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে। বর্তমানে রাশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী রয়েছে, যা বাড়িয়ে এক লাখ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর
জনশক্তি ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশই একমত হয়েছে যে বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম এবং তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধের বাজার বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সন্ধান ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল রাশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে রুশ পক্ষ।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা
আলোচনায় প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত সহযোগিতা গুরুত্ব পেয়েছে। কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একটি রুশ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যাতে রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়।
এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়ন এবং ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো।
ড. খলিলুর রহমান ৭ জুন থেকে রাশিয়া সফরে রয়েছেন। এ সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।



