ফরিদপুরে সাবেক মেয়র মাহতাব আলীকে গ্রেপ্তারের দাবি যুবদলের
কেন্দ্রীয় যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে ফরিদপুর জেলা ও মহানগর যুবদল আয়োজিত আনন্দমিছিলের পর সমাবেশে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মাহতাব আলীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বেনজীর আহমেদের বক্তব্য
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি (ফরিদপুর বিভাগ) ও ফরিদপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, 'সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চিহ্নিত দোসররা ফরিদপুরে পদচারণ করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, আপনারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমান নাকি?' তিনি আরও বলেন, 'সাবেক মেয়র মাহতাবকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁর নামে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলা আছে। যুবদলের একজন নেতা-কর্মীও বেঁচে থাকতে ফরিদপুরের মাটিতে তাঁর জায়গা হবে না। পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতিরোধ করতে হবে।'
আনন্দমিছিলের বিবরণ
কেন্দ্রীয় যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জেলা ও মহানগর যুবদল আয়োজিত এই আনন্দমিছিল গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শহরের ব্রাহ্মসমাজ সড়ক থেকে শুরু হয়। মিছিলটি জেনারেল হাসপাতালের মোড়, মুজিব সড়ক, ফরিদপুর প্রেসক্লাব, রাজেন্দ্র মেডিকেল হলের সামনে ও নিলটুলী এলাকা হয়ে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা
সমাবেশে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন ও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস।
প্রার্থিতা ও প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ফরিদপুর পৌরসভার আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন যুবদল নেতা বেনজীর আহমেদ। তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করবেন জানিয়ে শহরজুড়ে বিভিন্ন ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন। অন্যদিকে গুঞ্জন রয়েছে, এই নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক নির্বাচিত মেয়র শেখ মাহাতাব আলী।
শেখ মাহতাব আলী প্রায় ১১ বছর ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে ছিলেন। তিনি বহুল আলোচিত আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলার আসামি এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এই মামলায় আসামি হওয়ায় সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে অংশ নেননি মাহাতাব।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজ মঙ্গলবার সকালে শেখ মাহাতাবের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল করা হয় এবং খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



