নাটোর হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে আরও দুই সুইপার
নাটোর হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে আরও দুইজন

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর মাকে ওষুধ নেওয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে এক সুইপার। এই ঘটনা টের পেয়ে আরও দুই সুইপার গোপনে ভিডিও ধারণ করে এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ওই নারীকে তাদের সঙ্গেও দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর শহরের এক রিকশাচালকের অসুস্থ কন্যা শিশুকে সর্দি-জ্বরের চিকিৎসার জন্য তার মা ৫ জুন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সুইপার অমিত (২৩) ওষুধ নেওয়ার কথা বলে শিশুটির মাকে কৌশলে ডেকে হাসপাতালের লিফট দিয়ে ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে একইভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অপর দুই সুইপার অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গন (২৩) ঘটনাটি গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা ওই নারীকে ভিডিও দেখিয়ে তাদের সঙ্গেও দৈহিকভাবে মিলিত হতে বলে, অন্যথায় ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে হাসপাতালের সিঁড়িঘরেই অনিল ও প্রাঙ্গন ওই নারীকে পুনরায় ধর্ষণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তিন সুইপারকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনা জানাজানি হলে সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর থানায় তিন সুইপারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ না করে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে তিন সুইপারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানিয়েছেন, আটকের সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তিন সুইপার ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, মামলায় তার উপস্থিতির তথ্য সঠিক নয়। তিনি পরের দিন সকালে ঘটনা শুনেছেন এবং এর আগেই সুইপারদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের লিখিত সমঝোতা হয়ে যায়। তারপরও তিনি নাটোর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছিলেন।

নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেছেন, ঘটনার পর কোনো পক্ষ থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি। তবে লোকমুখে শুনে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মামলা ও গ্রেফতার

মঙ্গলবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর পিতা বাদী হয়ে সুইপার অমিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং অপর দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সময় ভিডিও ধারণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। নাটোর থানার ওসি মুনসুর রহমান জানিয়েছেন, মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি অন্যান্য রোগী, তাদের স্বজন ও এলাকাবাসী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন।