ভোলায় জমি বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট
ভোলায় জমি বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার চর আলগী গ্রামে জমির সীমানাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত শুক্রবার একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দিনই মামলা করা হলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি। বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিরা বাদীপক্ষ ও সাক্ষীদের পিটিয়ে জখম করার হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, যার ফলে তাঁরা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চর আলগী গ্রামের আনোয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে কামাল হোসেনকে পাকা বাড়ির জন্য আলাদা জমি দিলে চার ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মেজ ছেলে জামাল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে গোপনে বাবার ১২ শতক জমি নিজের নামে লিখে নেন, যাতে বড় ভাই কামাল হোসেনের বাড়িটিও ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে বাবা আনোয়ার হোসেন আদালতে দলিল বাতিলের দাবিতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন।

হামলা ও ভাঙচুর

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই মামলার জেরে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জামাল হোসেন, মো. শাহীন ও মো. শাকিল তিন ভাই কয়েকজন লোক নিয়ে বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা বাড়ির প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন। মা রোকেয়া বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁকে ও বাবা আনোয়ার হোসেনের ওপরও হামলা করা হয়। এতে মা গুরুতর আহত হন। মা রোকেয়া বেগম বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও হুমকি

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাবা তিন ছেলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনকে আসামি করে ঘটনার দিন মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, মামলা করার পরে আসামিপক্ষ বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। এতে বাদীপক্ষ আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে জামাল হোসেন, মো. শাহীন ও মো. শাকিলের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। মামলা তো প্রতিদিন হচ্ছে, আমি কয়টি মুখস্থ রাখব? মামলা সঠিকভাবে তদন্ত করা হবে। যদি সঠিক হয়, আসামি গ্রেপ্তার করবে। যদি মামলার তদন্তে কারা আসামি, তা প্রকাশিত না হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি গ্রেপ্তার করবে কেন? আইনে কী বলছে, দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করো, আর যাঁরা দোষী নন, তাঁরা যেন হয়রানির শিকার না হন।’

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বোরহানউদ্দিন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, তিনি দুই দফা গিয়ে তদন্ত করেছেন। দরকার হলে আবার যাবেন। তদন্ত চলছে।