হৃদযন্ত্রের ডিভাইস আইসিডি যেভাবে এরিকসেনের প্রাণ বাঁচালো
আইসিডি যেভাবে এরিকসেনের প্রাণ বাঁচালো

ডেনমার্কের তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়লে তার বুকে স্থাপন করা বিশেষ হৃদযন্ত্রের ডিভাইস (আইসিডি) দ্রুত সক্রিয় হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

আইসিডি কীভাবে কাজ করে?

আইসিডি হলো ছোট আকারের জীবনরক্ষাকারী একটি ডিভাইস, যা হৃদযন্ত্রের ছন্দে কোনো বিপজ্জনক পরিবর্তন শনাক্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে তা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এটি রোগের স্থায়ী সমাধান নয়, বরং সুরক্ষামূলক চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এরিকসেনের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিক ও দ্রুত স্পন্দন শনাক্ত করে বৈদ্যুতিক শক প্রদান করেছে। এর ফলে হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির স্পোর্টস কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক অ্যানিল মালহোত্রা বলেন, 'এটি অনেকটা কম্পিউটার বন্ধ করে আবার চালু করার মতো। আইসিডি অত্যন্ত কার্যকর একটি ডিভাইস।'

২০২১ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনা

২০২১ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ চলাকালে এরিকসেন হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। সে সময় মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত সিপিআর ও বহনযোগ্য ডিফিব্রিলেটরের সাহায্যে তার হৃদযন্ত্র পুনরায় সচল করা হয়। চিকিৎসকরা মনে করেন, তাৎক্ষণিক চিকিৎসাই সেদিন তার জীবন বাঁচিয়েছিল। পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীরে আইসিডি স্থাপন করা হয়। এবার হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতেই ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন হয় এমন হৃদরোগ?

চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতের ত্রুটি, হৃদপেশির প্রদাহ বা গঠনগত সমস্যার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি বংশগত কারণে হয়, আবার কখনও সংক্রমণ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও হতে পারে। তরুণ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও একেবারে অস্বাভাবিক নয়। এরিকসেনের আগে ফেব্রিস মুয়াম্বা মাঠে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া মার্ক ভিভিয়ান ফো ম্যাচ চলাকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

আইসিডি নিয়ে কি খেলাধুলা করা সম্ভব?

বর্তমানে গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক খেলোয়াড় আইসিডি নিয়েই খেলাধুলায় ফিরতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা এখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঝুঁকি ও সুবিধা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। যদিও কিছু দেশে নিয়ম ভিন্ন। ইতালিতে আইসিডি থাকা ফুটবলারদের অপেশাদার কিংবা পেশাদার পর্যায়ে খেলতে দেওয়া হয় না। এরিকসেন ভবিষ্যতে পেশাদার ফুটবল চালিয়ে যাবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকদের আগে খুঁজে বের করতে হবে সাম্প্রতিক ম্যাচে তার হৃদযন্ত্রের ছন্দ কেন বদলে গিয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

যুক্তরাজ্যের এক দাতব্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি সপ্তাহে ৩৫ বছরের কম বয়সি প্রায় ১২ জন মানুষ আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা যান। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। এরিকসেনের সাম্প্রতিক ঘটনাও দেখিয়ে দিয়েছে, সঠিক সময়ে সঠিক প্রযুক্তি জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।